

কক্সবাজারের উখিয়ায় শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং বয়স্কদের নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী নিউট্রিশন (পুষ্টি) ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পিওক পাড়ায় এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আনন্দ (ANANDO)-এর উদ্যোগে এবং Lichtbrücke ও BMZ-এর অর্থায়নে পরিচালিত “Peaceful Co-existence and Strengthening the Capacities of Hosting Communities Through Improvement of Livelihoods” প্রকল্পের আওতায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশিস সরকার। আনন্দের জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি কর্মকর্তা ডা. সুমন পাল-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রকল্প ব্যবস্থাপক কাজী মর্জিনা, প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকার বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ও উপকারভোগী অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথি কামনাশিস সরকার বলেন, “সুস্থ জাতি গঠনের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে। পরিবারে নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ খাদ্য নির্বাচন, সুষম খাদ্যের গুরুত্ব, পুষ্টিকর সবজি ও ফলমূল উৎপাদন, নিরাপদ সংরক্ষণ, খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং শিশু ও মায়েদের পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা, পরামর্শ ও তথ্যসেবা প্রদান করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোছা. রহিমা বেগম বলেন, “এ ধরনের আয়োজন আমাদের জন্য খুবই উপকারী। আগে অনেক বিষয় জানতাম না। এখন বুঝতে পারছি পরিবারের সবাইকে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবার খাওয়ানো কতটা জরুরি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, নিজেদের উৎপাদিত শাক-সবজি নিরাপদভাবে চাষ ও ব্যবহার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পেয়েছি। এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত হলে গ্রামের মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবে।
আয়োজকরা জানান, পুষ্টিহীনতা দূর করা, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পাঠকের মতামত